জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষা কমপক্ষে ২ মাস পেছানোর দাবীতে মোটামুটি কয়েকটি জেলায় মানব্ বন্ধন এর আয়োজন করেছে পরীক্ষার্থীরা । আমি এর কোন যুক্তি যুক্ত কারণ খুঁজে পাই না ।
২০১৪ সালের প্রথম দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের ঘোষণা দেয় । এবং একই বছরের মাঝামাঝি তা শুরু করে । ওই সময় সবাই এই কাজের প্রশংসা করেছিল । এবং সামনের ২০ তারিখের পরিক্ষা এ এই সময়ে হতে পারে তার ও একটি রূপ রেখে একই সময়ে প্রকাশ করা হয়েছিলো ।
কিন্তু আজ, আমার প্রশ্ন হল সেদিন তোমরা কি ঘুমায় ছিলে ?
অনার্স ৪র্থ বর্ষে আমাদের স্রধেয় একজন স্যার'র একটি ক্লাস করেছিলাম যা। স্যার সাথে ওইটাই আমার প্রথম আর শেষ ক্লাস ছিল ।
স্যার বলছিলেন............
"জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করা ছেলে মেয়েরা ঠিক মত ঘুমায় না , খায় না , লেখা পড়া করে না এমনকি নিজের যত্নও নেয়না । তবে এরা একটি কাজ ঠিক মত করে তাহলো সময় মত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া "
সেদিন ক্লাস শেষে রাস্তায় হাঁটছিলাম আর স্যার এর কথাগুলি বুঝার চেষ্টা করছিলাম । শেষে দেখলাম স্যার এর এই কথাটির মর্মার্থ অনেক সুদূর প্রসারী ছিল। আজ আমি আন্দোলনকারীদের কথাগুলি শুধু মনে করায় দিলাম । নিজের জায়গা থেকে বিবেচনা কর কি করছ ? কি করা উচিত ছিল?
আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বছর হত ১ম বর্ষে ২১ মাসে ২ বর্ষে ১৮ মাসে । এখন আর এই সময়টা লাগছে না, এটা আমি আজ তোমাদের জন্য আশীর্বাদ মনে করি ।
নিজের কাজ সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত । প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬২ ক্রেডিট শেষ হয় ১৮-২৪ মাসে এর মাঝে ৩ মাসের ইন্টার্নি ও করতে হয় তাদের , আমার মনে হয় সে দিক থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এখনো সুবিধাজনক অবস্থানেই আছে । তাই এখন রাস্তায় না ঘুরে টেবিলে বসে গেলে তোমাদের ভালো হবে।
আমাকে আন্দোলনের কোন পোস্ট ট্যাগ দেয়ার দরকার নাই, আমি জেগে আছি ।
আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করা সবার অবস্থা কি সে সম্পর্কে ছোট একটা গল্প দিয়ে শেষ করি ......
আমার ছোট বোন এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী, সকালে ঘুম থেকে উঠে ৮ টায় । বললাম কি রে তোর না পরীক্ষা তুই এতো বেলা ঘুমাইলি কেন? ভোরে পড়লে তো তাড়াতাড়ি পড়া হয় । কোন জবাব নাই । আমি আবার বললাম তাড়াতাড়ি পড়তে বস । এবার সে বলল সারারাত ঘুমাই উঠলাম একটু রেস্ট তো নিব নাকি ? অতঃপর আমি ভাষা হারাইয়া চুপ রহিলাম।
No comments:
Post a Comment